1. admin@pratidinerbarta.com : admin :

নারায়ণগঞ্জে এক কিশোরি ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে ৩ আসামীর স্বীকারোক্তি: দেড় মাস পর কিশোরি জীবিত উদ্ধারে পুলিশের তদন্ত ও জবানবন্দির বিষয় প্রশ্নবিদ্ধ

  • Update Time : Monday, August 24, 2020
এস এম শাহিন (নারায়নগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি),দৈনিক প্রতিদিনের বার্তা: নারায়ণগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে পরিবারের দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার তিন আসামী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও ঘটনার দেড় মাস পর ওই স্কুল ছাত্রী জীবিত উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কিশোরীর পরিবারে স্বস্তি ফিরে এলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিন আসামীর পরিবার। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের তদন্ত ও আসামীদের জবানবন্দি দেয়ার বিষয়ে। তবে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শহরের দেওভোগ পাক্কা রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী পনের বছর বয়সের কিশোরি দিশা মনি গত ৪ জুলাই বিকেলে তাদের বাসা থেকে নিখোঁজ হয়। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজি করে মেয়ের সন্ধান না পেয়ে এক মাস পর ৬ আগস্ট থানায় অপহরণ মামলা করেন বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন। এ ঘটনায় দিশার মায়ের মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে গত ৭ ও ৮ আগস্ট পুলিশ একই এলাকার রকিব, আবদুল্লাহ ও খলিল নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে, যাদের মধ্যে খলিল নৌকার মাঝি। গ্রেফতারের পর এই তিন আসামী দুই দফা রিমান্ড শেষে কিশোরী দিশাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে শীতলক্ষ্যা নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেয়ার কথা স্বীকার করে ৯ আগস্ট আদালতে জবানবন্দি দেয় বলে পুলিশ সে সময় গণমাধ্যমকে জানায়। বর্তমানে আসামীরা জেলাহাজতে রয়েছেন। তবে ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর গতকাল রবিবার (২৩আগস্ট) মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকা থেকে ওই কিশোরীকে জীবিত ফিরে পাওয়ার পর তার বাবা-মা বিষয়টি রাতে সদর থানায় গিয়ে জানান। তাদের দাবি, দিশা মনি শারীরিক প্রতিবন্ধি এবং অন্য এক যুবকের সাথে পালিয়ে বিয়ে করে স্বামীর সাথে দেড় মাস যাবত ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছে। আসামীদের বিরুদ্ধে এখন তাদের আর কোন অভিযোগ নেই এবং মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা তারা জানান। তবে এই মামলায় গ্রেফতারের পর তিন আসামীর ১৫ দিন যাবত কারাগারে থাকা ও জবানবন্দি দেয়ার বিষয়টিসহ পুলিশের তদন্তের ব্যাপারে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আসামীদের স্বজনদের দাবি, তদন্ত কর্মকর্তা এস আই শামীম রিমান্ডে তিনজনকে মারধর করেছেন এবং তিন পরিবারে কাছ থেকে ৪৭ হাজার টাকাও আদায় করেছেন। পুলিশের এই কর্মকর্তার বিচার দাবি করেন তারা। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ আসামীদের জবানবন্দির বিষয়টি ম্যাজিষ্ট্রেটকে অবহিত করা হবে। পাশাপাশি বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধানের আশ্বাস দেন জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Customized BY NewsTheme